Thursday, 1 August 2013

প্রিয় রঙ্কু



রঙ্কু,
শুভ জন্মদিন অসংখ্যবার লিখতে ইচ্ছা হচ্ছে শুভ জন্মদিন রঙ্কু শুভ জন্মদিন
জানি আজকের বাস্তবতায় এই চিঠি তোমার পড়তে ইচ্ছা হবেনা কিন্তু আমার লিখতে ইচ্ছা হলো
বাংলাদেশে এখন বর্ষা ঘোর বর্ষা আমি তোমাকে দেওয়া জন্মদিন এর কার্ড গুলো দেখছিলাম একটা কার্ডে লেখা "বৃষ্টির দিনে জন্মেছিলে তাই কি বৃষ্টি এত ভালো লাগে ?" বৃষ্টি আমার ভালো লাগে সবসময় লাগত তবে দূর থেকে দেখতে আর শব্দ শুনতে ভিজতে সেভাবে কখনো ইচ্ছা হয়নি ঠান্ডা লাগার ভয় কিনা জানিনা বা না ভিজতে ভিজতে হয়ত অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল নতুন কিছু করে দেখার ইচ্ছা টা হয়ত মরে গিয়েছিল ভিতর থেকে

আমি এখন বৃষ্টিতে ভিজতে শিখেছি তুমি যাবার পরে অনেক ভিজেছি কি আশ্চর্য !! ঠান্ডা কিছুতেই লাগলনা !! তোমাকে কাছে পাবার ইচ্ছাতে ঠিক তোমার মত করে  ভেবেছি আমি অসুস্থ হলে হয়ত তুমি আসবে একবার দেখতে তো আসবে  যেমন তুমি আম্মাকে কাছে পাবার জন্য জ্বর বাধাতে চাইতে ভবিষ্যতেও হয়ত অনেক ভিজবে বৃষ্টিতে অনেক ঘুরবে নতুন নতুন জায়গায় সেইসব পাহাড়ে যেসব পাহাড়ে গেলে, চারিদিক সবুজে ভরা সেই পাহাড়  দেখলে মানুষ চোখের পলক ফেলতে ভুলে  যায় একসাথে যাওয়ার কথা ছিল ভেবেছিলাম বাংলাদেশে গেলে সবাই  মিলে যাব মানুষ কত কিছু ভাবে !!

ভালো থেক ভালো থেক ভালো থেক অনেক ভালো অনেক অনেক ভালো তোমার স্বপ্নগুলো পরিপূর্ণ দেখার অপেক্ষায় আছি আবারও ভালো থেক শুভ জন্মদিন
জুলাই, ২০১৩

Tuesday, 30 July 2013

Echos of Emptiness

I opened my eyes in the morning
Looked lazily out of the window
Sydney --crippled like an old man by the cold and mist
Then gradually the golden sunshine starts to melt-- over the trees, grass, clothesline, and the nose of a parakeet –
Like a grilled vintage cheese-- and so does the city
But it couldn’t fill that aching emptiness in my heart
This wet morning breeze---filled with your smell--brings the stillness and loneliness of the dew drops

I can smell your hair, I can smell the skin of a newly born
A tiny little hands give me a little tickle,
Sounds of rattling toys and giggles dissolve into the air
I dissolve into you--- into my dream

At that moment somewhere in this beautiful bustling city ..... someone gently pours milk into your coffee.... you gaze at her dynamic hands in amazement
Her picturesque presentation brighten up your mood ...milk dissolves into the coffee like a white ribbon-- a ribbon-- always unfurling
and you,
you smile and dissolve yourself ---into that elixir coffee, into that spiraling smoke --- coming out of the mug

And here, I vaguely look into the memory frame put on the bedside
I whisper to myself “I am not angry with you, I can never be ----- I am baffled by your mountain of avoidance”

Thursday, 27 June 2013

Diary

আমার ইনবক্স এ মাঝে মাঝেই বার্তা আসে । কুশল বার্তা ।
আপু কেমন আছ ? দিন কেমন গেল ? ইত্যাদি ইত্যাদি
আমি হেসে হেসে উত্তর দেই ..ভালো আছি ..অনেক ভালো আছি ...প্রমাণস্বরূপ সঙ্গে লাগিয়ে দেই একটা প্রানখোলা হাসির ইমো ।
কারো কারো বার্তা পড়ে আমি অঝোরে কাঁদতে থাকি ....কিন্তু প্রতিউত্তরে আমি লিখি আমি ভালো আছি, সঙ্গে লাগিয়ে দেই হাসির ইমো ...
এই ইমো  আইকনগুলো বড়ই কার্যকরী । মানুষকে ধোঁকা দিতে ।
মানুষ শুধু আনন্দের সঙ্গী হতে চায়, কষ্টের নয় ... কান্নার কখনই নয় ।
তাই যাই হোক না কেন  ... বুকের ভিতর উথালপাথাল যন্ত্রণা নিয়েও তোমাকে হাসতে হবে ...

Tuesday, 25 June 2013

বিস্রস্ত জর্নাল


মেঘ থমথমে দিনগুলোতে এই আলো ঝলমলে নগরীর মানুষগুলোর মুখ কেমন যেন থমথমে হয়ে যায় । স্টেশন এ পা দিয়েই মনে হলো বসে থাকা মানুষগুলো সব মনমরা । মুঠোফোনের দিকে তাকিয়ে খুঁজে নিচ্ছে জীবনের আনন্দ । এরা বৃষ্টি কেন ভালবাসেনা ?
ট্রেন চলা শুরু হলে একের পর এক পেরিয়ে যায় স্টেশন । ভিতরের আরামদায়ক উষ্ণতাও মানুষগুলোর মুখে এতটুকু পরিবর্তন আনেনা । সবাই যেন মগ্ন অন্য কিছুতে ।
ট্রেনের জানালা দিয়ে দূর থেকে দেখা শহরটাকে যেন মনে হলো অদ্ভুতুড়ে একটা কিছু । বৃষ্টি, কুয়াশা শহরের আলোগুলোকে ম্লান করে দিয়েছে ।সেই সাথে ম্লান করে দিয়েছে যেন এদের জীবনের আনন্দও । পরিণত করেছে একটা মৃত নগরীতে ।
রেডফার্ন স্টেশন এ একজন কে চোখে পড়ল প্লাটফর্ম এর পিলার এ হেলান দিয়ে বই পড়ছে ।আমার মাঝে মাঝেই এমন কেন হয় যাকে তাকেই চেনা মানুষ ভেবে ভুল করি ।

সেন্ট্রাল স্টেশন এ নেমে পড়লাম । প্লাটফর্ম এ দ্রুত ধাবমান গার্ড কে পেরিয়ে হঠাৎ চোখ পড়ল ট্রেনের শেষ বগিতে দাঁড়িয়ে থাকা এক রেলকর্মীর দিকে ।থমকে গেলাম । কি ভাবছে ও ? এত গভীর দৃষ্টি কেন ? গার্ড এর হুইসেল এর শব্দের এর সাথে  সাথে চলা শুরু করলো ট্রেন আর সেই সাথে আমি । প্লাটফর্ম বদলে চড়ে বসলাম chatswood গামী ট্রেনে ।

আমি রিঙ্কুদি'র বাড়িতে যাচ্ছি । একের একের পর এক স্টেশন পেরিয়ে ট্রেনটা যখন নর্থ এর দিকে যেতে থাকে, এক ধরনের উতকন্ঠা কাজ করে আমার ভিতরে ।এর আগেও বহুবার হয়েছে । ভবিষ্যতেও হবে । ট্রেনের যান্ত্রিক কন্ঠস্বর যখন বলে ওঠে "this station is  North Sydney" তখন আমার তৃষ্ণার্ত চোখ প্লাটফর্ম এর এমাথা ওমাথা চষে ফেলে নিমেষে । অসংখ্য অফিসফেরতা মানুষের গিজগিজে ভিড় । ঘরে ফিরে যাচ্ছে সবাই । সবাই কি ঘরে ফেরে ? নাকি কেউ কেউ ঘরহীন ঘরেও ফেরে ?

ট্রেন থেকে নেমে হাঁটতে থাকি রিঙ্কু দির বাড়ির দিকে । বৃষ্টিটা এখন একটু ধরে এসেছে ।এখন শহরটাকে আর মৃত মনে হচ্ছেনা । রাস্তার পাশে একটা বার চোখে পড়ল । বাইরের শেড দেওয়া জায়গায় গ্যাসবাতি জ্বালানো হয়েছে একটু উষ্ণতার জন্য । ছোটছোট গোল টেবিল ঘিরে হাইচেয়ার এ বসে আছে মানুষেরা । সুখী মানুষেরা । মাঝে মাঝে গলায় ঢালছে জ্বলন্ত তরল । হাসির কলরোল ছড়িয়ে দিচ্ছে বৃষ্টিভেজা বাতাসে ।সেই হাসি কিছুটা হলেও উষ্ণ করে দিচ্ছে আশেপাশের পরিবেশকে ।
আমি আবার হাঁটতে থাকি । একা ।মাথার ভিতরে ঘুরতে থাকেন রবীন্দ্রনাথ

"বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো
সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও॥
নয়কো বনে, নয় বিজনে নয়কো আমার আপন মনে--
সবার যেথায় আপন তুমি, হে প্রিয়, সেথায় আপন আমারও॥
সবার পানে যেথায় বাহু পসারো,
সেইখানেতেই প্রেম জাগিবে আমারও।
গোপনে প্রেম রয় না ঘরে, আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ে--
সবার তুমি আনন্দধন, হে প্রিয়, আনন্দ সেই আমারও॥"


আমাকে ভিজিয়ে যায় ঝিরঝিরে বৃষ্টি আমি হাঁটতে থাকি দ্রুত ।

Sunday, 16 June 2013

অনুশোচনা


 কাউকে ভালোবেসে বা কারো আবেগের মূল্য দিতে গিয়ে
কখনো জলাঞ্জলি দিওনা নিজের আজন্ম লালিত সপ্নকে
হোকনা সে যতই আপন
কারণ ওই সপ্নই তোমার পরিচয়
কেননা এমন সময় আসতে পারে সেই আপন মানুষ
তোমার সপ্ন পূরণ করতে না পারার কষ্টগুলোকে তাচ্ছিল্য করবে
তোমার যোগ্যতা কে দাড়িপাল্লায় মাপবে
চোখে আঙ্গুল  দিয়ে দেখিয়ে দেবে তোমার ব্যর্থতাকে
উপহাস করবে তোমার আবেগকে
বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলে যাবে

Friday, 15 March 2013

দীপাবলী ও অন্যান্য


রাস্তার মোড়ের বিল্ডিংটার তেতলার ছোট খুপরি ঘরটার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জানালাটা । এখান দিয়ে এক চিলতে আকাশ দেখা যায় গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে । আর বিকেলবেলায় অসংখ্য টুটু পাখি এসে ভিড় করে গাছটায় ।ওদের চেঁচামেচিতে মাঝে মাঝে নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হয় বলে বিরক্তও লাগে । রাতে ওই এক চিলতে আকাশে অরুণিমা খুঁজে নিতে  চেষ্টা করে  অরিয়ন এর বেল্টের ওই তিনটে তারাকে, যারা সবসময় একসঙ্গে থাকে । আর মাথার খুপরিতে অহর্নিশ ঘুরতে থাকা একটি মুখ, একটি অনুভূতিকে ভুলে যেতে চেষ্টা করে একই সাথে । কিন্তু তার সমস্ত চেষ্টা কে ব্যর্থ করে দিয়ে কেউ একজন বলে ওঠে, কিছু শুন্যতা কখনো পূরণ হয়না । কিছু অনুভূতি কখনো ভোলা যায়না ।

মাথার কাছে পড়ে থাকে জীবনানন্দ, সমরেশ, পূর্ণেন্দু পত্রী আর সদ্য পড়া একটি সুইসাইড নোট্ । কথোপকথন এর পাতা উল্টে চোখে পড়ল সোনালী কলমে লেখা একটি তারিখ । দিনটিকে মনে করবার চেষ্টা করতেই আবার ফিরে আসে সেই মুখ । তখন তার মনে হল নিজের, একান্ত নিজের বলে কিছুই কি ছিলনা তার  ! সব দিক থেকে যেন আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ে আছে।

ফোন তুলে নিয়ে ভাবলো তার একজন আপন মানুষ যে কিনা নিতান্ত তার একার  তার সাথে কথা বলে । কল লগ ঘেঁটে খুঁজে বের করলো  শুচির নম্বর । কল বাটন চেপে ভাবতে থাকে এই মেয়েকে  ফোন করে কখনো পাওয়া যায়না । হঠাৎ স্ক্রিনে চোখ দিয়ে এক ঝটকায় কল কেটে দেয় সে । এটা তো শুচির নম্বর নয় !!ঘড়ি দেখে । রাত প্রায় দুটো । একটু আতঙ্কিত হল সে ।
-'ঘুম ভাঙিয়ে দিলামনা তো !"
 একবার ভাবলো  এসএমএস করে জানিয়ে রাখে  অনিচ্ছাকৃত ভুলের কথা ।পরে মনে হলো থাক তা  হয়ত আরেকটা বিরক্তির কারণ হবে মানুষটার।

এটা ওটা ভেবে ভেবে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে  মনে নেই ওর ।সকালে বালিশের তলায় রাখা ফোনের ভাইব্রেশন এ ঘুম ভেঙ্গে কিছু না দেখেই ফোন রিসিভ করতেই ওপাশে চেনা কন্ঠ ।

রাতে ফোন করেছিলে ?
- না আমি শুচি কে ফোন করতে যেয়ে ভুল করে ...
ও আচ্ছা, আমি ভাবলাম কোনো দরকার ছিল বোধহয়, রাখি তাহলে
- আচ্ছা

প্রচন্ড কষ্টে, অপরাধবোধে  কুঁকড়ে যেতে যেতে  ওর মনে হল সমস্ত ঘরে নিঃশ্বাস নেবার মত এতটুকু বাতাস নেই । মাথার পাশে রাখা সাতকাহন টেনে নিয়ে উল্টাতে থাকলো।  দীপাবলীর মত শক্ত হতে চেয়েছিল সে  কিন্তু দীপাবলীর জীবন তো সে  চায়নি ।

চোখ বন্ধ করে সে দেখতে পায় রুক্ষ চুলের একটি মেয়ে, ময়ুরকন্ঠী নীল শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে খুব শান্ত একটি নদীর পাড় ঘেঁষে । নদীর শান্ত জলে ছায়া পড়েছে পাশের পাকুড় গাছটার । ঝাপসা চোখে মেয়েটি কারো একজনের চলে যাওয়া দেখে । চলে যাওয়া মানুষটার মুখে যেন একচিলতে বিদ্রুপের হাসি ।

হঠাৎ তার ময়ুরকন্ঠী শাড়ির নীল রঙগুলো খুলে পড়তে থাকে ...রঙগুলো গ্রাস করে মেয়েটির চোখ, মুখ, মন ..হয়ে যায় তার কপালের সূর্যের মত বড় টিপ ..