Saturday, 7 September 2013

একবিংশ শতকের প্রেমিকেরা

এই যে একবিংশ শতকের প্রেমিকেরা,শুনুন
‘দোতলার ল্যান্ডিং’ এ, বাসস্ট্যান্ডে, ফেরীতে, বহুতল ভবনের লিফটে
হয়তো ইউরো ট্রিপে ‘রেলগাড়ির কামরায়’
কিংবা গ্র্যান্ড ক্যানেলে গণ্ডোলায় ভাসতে ভাসতে,
বহুবার আপনাদের দেখা হবে
কিন্তু আপনারা ভুলেও স্মৃতিচারণের দিকে যাবেননা;
বরং সযতনে এড়িয়ে যাবেন একে অন্যকে
এমন ভাব করবেন, যেন চিনতেন না কেউ কাউকে কোনদিন
ডিনার পার্টিতে, ব্যুফেতে খাবার নিতে নিতে
বন্ধুর সাথে মেতে উঠবেন স্থুল আলোচনায়
আর মনে মনে নাক সিঁটকোবেন তার ড্রেস সেন্সের কথা ভেবে
‘ডালিম ফুলের মত রাঙ্গা বা কালো রেশম শাড়ি’ সবই অচল এ যুগে
আপনি বরং প্রশংসায় মাতবেন
প্রাডা কিংবা লুই ভুটন এর নতুন সামার কালেকশন এর
রবীন্দ্রনাথ কে বড্ড সেকেলে ঠাউরে বলবেন
‘রাতের সব তারাই থাকে দিনের আলোর গভীরে’ এ তো স্বতঃসিদ্ধ ...
এ বাক্যের নান্দনিকতা ভুলে গিয়ে আপনি বরং হিসেব কষতে থাকবেন
অবজার্ভেবল ইউনিভার্সের সবচেয়ে দূরতম নক্ষত্রটি ঠিক কত আলোকবর্ষ দূরে
কিংবা ঠিক কোন নেবুলায় জন্ম নেয় অরিয়ন বেল্টের তারারা
অপেক্ষায় প্রহর গুনবেন
কবে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করবেন কবিতা উপন্যাস লেখার ফর্মুলা
যা দিয়ে কিনা মাউস এর এক ক্লিকে লেখা হয়ে যাবে ‘খোয়াবনামা’
কিংবা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ একটি প্রেমের কবিতা ।
এই যে শুনুন, একবিংশ শতাব্দীর ‘সলিচ্যুড’ আক্রান্ত প্রেমিকেরা
দিনশেষে যখন সলিচ্যুড কিংবা নীহারিকা, কালপুরুষ আর সপ্তর্ষিমণ্ডল এর মাঝে নির্বাণ খুঁজে ফিরবেন
অথবা টেক্সট করে নতুন কাউকে জানাবেন ভাললাগার অনুভূতি
জেনে রাখুন, হে একবিংশ শতকের স্মার্ট প্রেমিকেরা
তখন আপনি কবিতাই খুঁজে ফিরবেন
সে জীবনানন্দ, গুণ বা জয় গোস্বামীর ভাষায় হোক
বা থোরিউ, ফ্রস্ট, বুকওস্কির ভাষায় ।

বাজিয়ে

আমি তোমাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম
মোটা কালো ফ্রেমের চশমার ভিতরে একজোড়া চোখ
জড়িয়ে আসছে ঘুমে, তবুও জোর করে টেনে ধরে রাখে ক্লান্ত ভারী পাতা
কি যেন খুঁজে ফেরে দিনরাত-- জীবনের মানে? হয়তো হবে
আমি তাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম
সেই চীনে প্রবীণ
যে সেন্ট্রাল স্টেশন এর টানেল এ বসে ক্লান্তিহীন বাজায় এরহু
যার হাতের মায়ায়
এরহু’র প্রতিটি তার চুইয়ে নেমে আসে সুর
ছেয়ে ফেলে সমগ্র টানেল
সে সুর আমার ঘুমহীন রাতের ক্লান্তি এক লহমায় শুষে নেয়
বিরক্তিকর একাকী সকালগুলোকে স্নিগ্ধ করে তোলে ক্ষণকালের জন্য
আমি সেই বাজিয়ে কে নিয়ে একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম
টানেল দিয়ে হেঁটে যাওয়া সারি সারি মানুষের মাথার খুপরিতে বাড়ি খেয়ে
প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে সে সুর
তখন সামনে রাখা পাত্রে কেউ কেউ অবজ্ঞাভরে ফেলে যায় পয়সা
জীবনযুদ্ধে ক্লান্তিহীন লড়ে চলা, ওই কুতকুতে চোখের চীনে বুড়ো
টানেল এর ভিতর দিয়ে প্রতিদিন দেখে অসংখ্য জীবন
তাদের সপ্নালু চোখের দিকে তাকিয়ে সে বাজিয়ে চলে অবিরাম
আমি তাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম
প্রতিটা নিস্তব্ধ সন্ধ্যা আর রাত্রিতে
আমার বুকের ভিতরে ঝরে পড়ে যে অজস্র নীলচে বেগুনী জাকারাণ্ডা
ঝরে ঝরে নীলচে করে তোলে বুকের প্যারাপেট
আমি তাদের নিয়ে একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম
আমি সবসময় তোমাকে, শুধু তোমাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম ।

মাঝে মাঝে খুব ভাল লাগে

মাঝে মাঝে ঠিক এইরকম শুনশান একটা দুপুর
খুব ভাল লাগে
ঠিক এইরকম, ঝিরঝিরে হাওয়ায় শব্দ তুলে জেগে ওঠে ইউক্যালিপটাস এর পাতা
কেয়াবনের নীচে একটু ঝুপঝুপে তরল ছায়া পড়ে
একজন বৃদ্ধ এলোমেলো উদাস ভঙ্গীতে হেঁটে চলেন বাগানে
ঠিক এইরকম একটা দুপুর মাঝে মাঝে খুব ভাল লাগে
বোগেনভিলিয়ার ঝাড়ের ভিতর থেকে ভেসে আসে মৌমাছির গুনগুন
ঠিক এইরকম একটা গুনগুন করা দুপুর খুব ভাল লাগে মাঝে মাঝে
প্রজাপতি আর ফড়িং এর বিস্তর ওড়াওড়ি দেখতে দেখতে
ঝরা পাতা নিয়ে বাতাসের খেলা দেখতে দেখতে
আমার তখন; প্রচণ্ড গ্রীষ্মের দুপুরে ঝরে পড়া সজনে ফুলের কথা মনে পড়ে
থানকুনি পাতা দিয়ে শিং মাছের ঝোল আর ধোঁয়া ওঠা গরম ভাতের কথা মনে পড়ে
মায়ের কথা মনে পড়ে ....
মনটা কেমন যেন করে ওঠে
ঠিক তখনি তীক্ষ্ণ চিৎকারে নিজের অস্তিত্ব জানান দেয় একটা দোয়েল
এই রকম একটা মন কেমন করা দুপুর, মাঝে মাঝে আমার খুব ভাল লাগে ।

Friday, 30 August 2013

স্ত্রীর কাছে রাজবন্দীর চিঠি



প্রিয়তমা হে,
তোমার শেষ চিঠিতে তুমি লিখেছ
“ওরা তোমাকে ফাঁসীকাষ্ঠে ঝোলাবে, একথা শোনার পর
সহস্র হাতুড়ি যেন দুড়মুশ পিটছে আমার মগজে
আমার জগৎ গেছে থমকে
আমি পারবনা তোমার মৃত্যু দেখতে, পারবনা তোমাকে হারাতে
আমি বাঁচবনা”

হৃদয়নন্দিনী আমার,
তুমি কি জান? তুমি বেঁচে থাকবে
আমার স্মৃতি কালো ধোঁয়ার মতই মিলিয়ে যাবে বসন্তের বাতাসে
অবশ্যই বেঁচে থাকবে তুমি,
প্রিয়তমা আমার,  
এই বিংশ শতকে শোক আর কতদিন থাকে বল
বড়জোর বছরখানেক ... এর বেশি নয়

মৃত্যু... একটা নিঃসাড় ঠাণ্ডা দেহ ঝুলছে দড়িতে;  
ভাবতেই মনে হয়
আমার হৃদয় কখনো মেনে নেবেনা এমন মৃত্যু
তবে আমি বাজি রেখে বলতে পারি
লিকলিকে লোমশ কালো হাতে, যে হতভাগা আমার গলায় পরাবে ফাঁসীর দড়ি
আমার শান্ত নীল চোখের দিকে তাকিয়ে,
প্রচণ্ড ভয়ে শুধুই নিস্তার পেতে চাইবে 

প্রিয়তমা আমার,
আমার জীবনের শেষ সকালের ম্লান আলোয় তোমার সাথে আমার দেখা হবে
আমি বিদায় নেব
শুধু একটাই খেদ থেকে যাবে মনে,  
যে বিপ্লবের গান আমি শুরু করেছিলাম
তা হয়ত অসমাপ্তই থেকে যাবে ...  

আমার স্বর্ণময়ী প্রিয়তমা,
যার সুগভীর চোখের মায়ায় হারিয়ে যায় সহস্র হৃদয়...
কোন কুক্ষণে যে আমি তোমাকে লিখতে গেলাম আমার ফাঁসীর কথা
চিন্তা করোনা তুমি,
বিচার তো শুরু হল সবে
আর এতো কোন মগের মুলুক নয়
যে চাইলেই মুড়ি মুড়কির মত যাকে তাকে ঝুলিয়ে দেবে ফাঁসীকাষ্ঠে
এখন এসব কথা থাক,
হাতে যদি টাকাপয়সা থাকে
কিছু শীতের কাপড় কিনে পাঠিও
পিঠের ব্যথাটা ভীষণ ভোগাচ্ছে আমায়

আর ভুলে যেওনা,  
একজন রাজবন্দীর স্ত্রী তুমি
তোমার দৃষ্টি থাকবে, শুধুই সামনের দিকে
সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে। 


(নাযিম হিকমত থেকে অনুবাদ)
 



Wednesday, 28 August 2013

নিমজ্জন

যেন দীর্ঘদিন ধরে আমি একটা সপ্নে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছি
বার বার জেগে উঠতে চেয়েও হয়েছি ব্যর্থ--
আর্তচিৎকারে কাঁপিয়ে দিয়েছি চারিপাশ,
তবুও ভাঙেনি ‘রিপভ্যান উইঙ্কেল’ এর এই ঘুম
অবশেষে পরাজিত আমি সখ্য গড়েছি সপ্নের সাথে
প্রতিদিন আমার সপ্নে সারি বেঁধে আসে-- চেনা অচেনা মুখ
আসে শৈশব,
তুমি... শিশু --- আসে মৃত্যু
আমার মগজে ঘোড়ার খুরের ক্ষিপ্রতা নিয়ে করে দাপাদাপি ...আমাকে ভীষণ রক্তাক্ত করে ...তৃষ্ণার্ত করে –
তখন আমি যন্ত্রণা পান করি ...
তোমাতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত আমি শুধু যন্ত্রণা পান করি ........

Tuesday, 27 August 2013

Tunnel of Solitude

I walk through the tunnel of solitude
With a sea of people around me
No one ever turns their face to another
They rush to reach their destination ...like a puppet
I do the same as well
They look tired .... and so am I
I feel, I didn't sleep for a long time
but I continue to walk .....to find a shore where I can fall into a deep sleep,
Deep into the darkness ....

No I don't want to dream, not anymore
not even a good one ....
Don't want to loose you, not anymore
Not even in my dream
I just want to fall into a deep sleep
Just want to fall into ....a deep deep sleep.

চাবি

মুহূর্তে সচকিত হয়ে উঠি
চেনা কারো পায়ের শব্দ, খুব চেনা...
চাবির শব্দ, দিন শেষে বাড়ি ফিরে ঘর খোলার চাবি
একটা অদ্ভুত রকম ঝনঝন শব্দে বাজে ওই চাবি
আর কেউ পারেনা ওভাবে বাজাতে ...
বহুদিন যেন কেউ খোলেনা দরজা বাইরে থেকে ...
উৎকণ্ঠ আমি অপেক্ষায় থাকি ...অপেক্ষায় থাকি
কেউ ফিরবে একসময় ... সেই একই চেনা আর ভয়ঙ্কর রকম সুন্দর করে বাজতে থাকবে তার হাতের চাবি
আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনবো ...শুনবো
একসময় বাতাসে মিলিয়ে যায় শব্দ ...
তবুও বাকরুদ্ধ আমি ... স্মিত হেসে বলি
আবার বাজাও তুমি তোমার হাতের চাবি
অনন্তের পানে চেয়ে আমি বসে আছি,বসে আছি
কেবলই বসে আছি ।